টানা দুই বছর পতনের পর বিশ্বব্যাপী টেলিকম সরঞ্জামের বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) বৈশ্বিক টেলিকম সরঞ্জাম বাজারের আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল’অরো গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি বাজারের ছয়টি প্রধান খাত যথা ব্রডব্যান্ড অ্যাকসেস, মাইক্রোওয়েভ ও অপটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট, মোবাইল কোর নেটওয়ার্ক, রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক ও সার্ভিস প্রভাইডার রাউটার ও সুইচ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রই বছরের প্রথম ছয় মাসের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
টেলিকম সরঞ্জাম হলো সেসব যন্ত্র ও ডিভাইস, যা ফোন, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সংযোগ চালাতে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে রাউটার, মডেম, সেলুলার টাওয়ার, অ্যান্টেনা, সুইচ, হাব ও স্যাটেলাইট যন্ত্র অন্তর্ভুক্ত। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়া, ফোনকল ও ডাটা আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে।
সম্প্রতিক বাজারটি ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন ডেল’অরোর বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে একটি হলো বাজারে পণ্যের মজুদ এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। পাশাপাশি মুদ্রাবিনিময় হারের অনুকূল পরিবর্তনও কোম্পানিগুলোর আয় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
যদিও বাজারটিতে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবু ২০২৫ সালের শুরুতে এ সামান্য উত্থানকে বৈশ্বিক টেলিকম অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগে নতুন আশাবাদের লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী টেলিকম সরঞ্জাম বাজারের আকার প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। ২০৩০ সালে বাজারটির আকার বেড়ে ৮৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ডেল’অরো গ্রুপের তথ্যানুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে চীনের বাইরে টেলিকম সরঞ্জামের বাজারে আয় বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাজারের সব খাতেই বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেছে মোবাইল কোর নেটওয়ার্ক (এমসিএন), অপটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এবং সার্ভিস প্রভাইডার রাউটার ও সুইচ খাত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে টেলিকম সরঞ্জামের চাহিদাও বাড়ছে। মানুষ ব্যক্তিগত ও পেশাদারি কাজে, যেমন যোগাযোগ, বিনোদন ও অনলাইন কেনাকাটার জন্য ইন্টারনেটে আরো নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে টেলিকম কোম্পানিগুলোও নেটওয়ার্ক উন্নত করতে আধুনিক সরঞ্জাম কিনছে।